নেশায় ডুবছে পথশিশুরা

0
384

প্রথমে কৌতুহল। পরে ধীরে ধীরে আসক্তি। হররোজ এখন মরণ নেশায় আসক্ত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পথশিশুরা। সকাল-সন্ধ্যা দলবেঁধে ‘ড্যান্ডি’ ও গাঁজার নেশায় বুধ হয়ে থাকে ওরা। মাদকের নীল নেশায় অন্ধকারের পথে হারিয়ে যাচ্ছে এসব শিশুরা। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে এরা। নেশার টাকার জন্যে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে। করছে ভিক্ষাবৃত্তিও। চুরির দায়ে জেলেও গেছে অনেকে।

জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত পথশিশু রয়েছে। উপজেলা সদরের বিভিন্ন কলোনীতে এদের বসবাস। ওরা প্রায়ই শিশি-বোতল ও কাগজ কুড়িয়ে বিক্রি করে। দিনের একটা সময় ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে করে ভিক্ষাবৃত্তি। জমানো কিছু টাকায় খাবার ও কিছু টাকায় বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবন করে রোজ। ড্যান্ডি, গাঁজা ও সিগারেট খায় সবাই।

নেশায় আসক্ত পথশিশু জয়নাল, দিলোয়ার, অন্তর, আউয়াল, নাঈম, ফখরুল, শফিকুল, কয়েছ, আক্তার, তাজ উদ্দিন ও সোহাগের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যাওয়ায় মায়ের সাথে বিভিন্ন কলোনীতে বেড়ে ওঠেছে ওরা। কেউ দরিদ্রতার কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে, কেউবা সৎ মায়ের জ্বালায় ছেড়েছে সংসার।

পথশিশু জয়নাল (১২) জানায়, চুরির দায়ে জেল খেটে ঢাকায় যায় তাজ উদ্দিন (১৭) নামের এক পথশিশু। কিছু দিন পর ঢাকা থেকে ফিরে সে’ই ড্যান্ডি’র নেশা শেখায় সবাইকে। সন্ধ্যার সময় সবার কাছ থেকে চাঁদা করে নেশার ব্যবস্থা করত সে। এভাবেই আমরা ড্যান্ডি নেশায় অসক্ত হয়ে পড়ি। এখন দিনে তিন থেকে চার বার এ নেশা করতে হয়। না হয় শরীর ‘ঝিনঝিন’ করে। জয়নাল আরো জানায়, খাবার ও নেশার টাকা যোগান দিতে তার ভাই আক্তার (১৭) ও দিলোয়ার (১৩) চুরির দায়ে  ইতিপূর্বে একাধিকবার জেলেও গেছে।
পথশিশু মৌসুমী (৯) নিজ গ্রামের ঠিকানা না জানলেও সে জানায়, সুনামগঞ্জ থেকে সে মায়ের সাথে বিশ্বনাথে আসে অনেক আগে। সে আরো জানায়, তার সহপাঠীরা প্রত্যেকেই নেশাগ্রস্ত। ওদের পাল্লায় পড়ে সেও আগে সিগারেট খেত, এখন খায় না।
সম্প্রতি দিনে-দুপুরে ‘ড্যান্ডি’ সেবনকালে বিশ্বনাথ বাসিয়া ব্রীজের নীচে একদল পথশিশুকে ধাওয়া করেন বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের এসআই কামরুজ্জামান। ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় পথশিশুর দল।
বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইন-চার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, যারা ওইসব শিশুদের কাছে নেশার সরঞ্জাম বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু ইউসুফ জানান, আমাদের কাছে ওদের কোন তালিকা নেই। নেই কোন প্রোগ্রাম। মূলত ‘শেখ রাসেল দুস্থ শিশু পূর্নবাসন ও প্রশিক্ষণ সংস্থা এদের নিয়ে কাজ করে। যা আমাদের উপজেলায় নেই।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, পথশিশুদের সুরক্ষায় কাউন্সিলিংয়ের কোন বিকল্প নেই। শিশু ও অভিবাবক যারাই আছেন তাদের নিয়ে পৃথক কাউন্সিলিং প্রয়োজন।
সিলেট জেলা শিশু একাডেমীর শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন ভূঞা বলেন, পথশিশুদের নিয়ে আমাদের কোন কার্যক্রম নেই।
ওদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কোন কার্যক্রম (প্রশিক্ষণ ও পূর্নাবাসন) আছে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, পথশিশুদের নিয়ে এখন পর্যন্ত সেরকম কোন কার্যক্রম নেই। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।